ইউরোপজুড়ে উচ্চগতির রেল পরিষেবার বিস্তার করবে ইইউ

ইউরোপজুড়ে উচ্চগতির রেল সংযোগ আরো বাড়াতে চলতি বছর শরতে নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করবে ইউরোপিয়ান কমিশন।

ইউরোপজুড়ে উচ্চগতির রেল সংযোগ আরো বাড়াতে চলতি বছর শরতে নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করবে ইউরোপিয়ান কমিশন। সংস্থাটির পরিবহন কমিশনার আপোস্তোলোস জিৎসিকোস্তাস জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি এ ভিশনের লক্ষ্য হলো গোটা মহাদেশে আরো সংযুক্ত, কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ, যা জাতীয় সীমানা পেরিয়ে চলাচল করতে সক্ষম ট্রেন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভব হবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

কমিশনার বলেন, ‘‌যাত্রীকেন্দ্রিক আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী রেলসেবা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইইউ। এতে দ্রুতগামী লাইন ও নির্ঝঞ্ঝাট আন্তঃসীমান্ত যাত্রা শুধু পরিবেশবান্ধব করবে না, বরং আরাম, সময় ও খরচের দিক থেকেও আকাশপথের বিকল্প হয়ে উঠবে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ভিন্ন গেজের রেললাইন, আলাদা প্রযুক্তি, সিগন্যাল ব্যবস্থা ও রোলিং স্টকের পার্থক্যের কারণে বহুদিন ধরেই আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান রিফর্মের এক জরিপে দেখা গেছে, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ থাকলে চারজনের মধ্যে তিনজন যাত্রী উড়োজাহাজের বদলে ট্রেন বেছে নেবেন। কিন্তু ২০২১ সালের কমিশনের রিপোর্ট বলছে, ইইউর আন্তঃসীমান্ত যাত্রায় রেলপথ ব্যবহারের হিস্যা এখনো ১০ শতাংশেরও কম।

জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০৫০ সালের মধ্যে পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ ৯০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইইউর। আমস্টারডাম থেকে লন্ডনে রেলে গেলে একই দূরত্বের প্লেনযাত্রার তুলনায় ৯৩ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ হয়। কিন্তু অর্থ–সংকটে থাকা জাতীয় অপারেটররা ঘরোয়া সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তাদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও আন্তঃসীমান্ত ট্রেন কেনা বেশ ব্যয়বহুল।

ইইউ ২০১৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চগতির রেল চলাচল দ্বিগুণ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তিন গুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এজন্য ৪৯ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৫৪ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো ব্যয় সাপেক্ষ নেটওয়ার্ক পরিকল্পনায় রয়েছে, যা সব ইইউভুক্ত দেশের রাজধানী ও বড় শহরকে প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির রেলপথে যুক্ত করবে।

জিৎসিকোস্তাস জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধাগুলো দূর করা জরুরি। শুধু ইইউর বাজেট বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, দরকার যৌথ অর্থায়ন পদ্ধতি। যেখানে ইউরোপীয় তহবিল, জাতীয় সহায়তা ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয় হতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, নতুন অবকাঠামো যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়। নতুন অপারেটরদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও বগি–কোচ সহজলভ্য হতে হবে।

উচ্চগতির ট্রেনের টিকিট এখনো অনেক ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের চেয়ে বেশি দামি এবং এর বুকিং প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল। ইইউর একক বুকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলায় ইইউর পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়েছে। তবে কমিশন কাজ করছে যাতে সব অপারেটর ও বিক্রেতা একই প্লাটফর্মে টিকিট বিক্রি করতে পারে এবং যাত্রী অধিকার উন্নত হয়।

কমিশনার মনে করেন, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও সহজে বুকিংযোগ্য সেবা দিতে পারলে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে। এখনো জাতীয় স্বার্থ অনেক সময় ইউরোপীয় লক্ষ্য পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবু তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘‌আগামী বছর চালু হতে যাওয়া প্রাগ বার্লিন–কোপেনহেগেন সরাসরি রুট যাত্রার চাহিদা বাড়াবে এবং সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে দেবে।’

জিৎসিকোস্তাস বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখি এমন একদিনের, যখন কোপেনহেগেনের ভেস্টারব্রোতে দুপুরের খাবার শেষে ট্রেনে চড়ে সন্ধ্যায় প্রাগের ভেনসেসলাস স্কয়ারে রাতের খাবার খাওয়া যাবে।’

আরও